ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট গ্রামের বাসিন্দা মাঈন উদ্দিন একসময় সেলুনের ব্যবসা করতেন। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে মাঠে কাজ করার সুবাদে কৃষির প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ গড়ে ওঠে। প্রায় তিন বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের হাল ধরতে তিনি সেলুনের কাজ ছেড়ে পুরোপুরি কৃষিকাজকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। বর্তমানে তিনি লাউ, করলা, শিম ও মরিচসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে সংসারের খরচ মেটাচ্ছেন।
চলতি মৌসুমে মাঈন উদ্দিন নবীনগর উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের পরামর্শে এবং বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় প্রথমবারের মতো আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে পার্পল কিং জাতের বেগুন চাষ করেছেন। নিজের এই নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, আগে কখনও এভাবে চাষ করেননি। মালচিং ব্যবহারের ফলে জমিতে আগাছা জন্মানোর হার কমেছে এবং মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘক্ষণ বজায় থাকছে, যার ফলে গাছের বৃদ্ধি ও ফলন দুটোই বেশ ভালো হয়েছে।
মাঈন উদ্দিন বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কেজি বেগুন সংগ্রহ করছেন। বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, আবার কোনো কোনো দিন দাম বেড়ে ১২০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আশা করছেন, জমিতে থাকা গাছগুলো থেকে আরও অন্তত দুই মাস নিয়মিত ফলন পাওয়া যাবে।
বিদ্যাকুট ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সফুরুল্লাহ জানান, মাঈন উদ্দিনের জমি নিয়মিত পরিদর্শন করে তাঁকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদন ও আয় যে বাড়ানো সম্ভব, তা মাঈন উদ্দিনের সাফল্য প্রমাণ করেছে। মৌসুম শেষে তাঁর তিন লাখ টাকার বেশি লাভ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, বি-স্ট্রং প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। মাঈন উদ্দিনের সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হচ্ছেন এবং চলতি মৌসুমে প্রায় চার বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণে নিয়মিত প্রদর্শনী, প্রশিক্ষণ ও মাঠ দিবসের আয়োজন অব্যাহত রেখেছে। মাঈন উদ্দিনের মতো কৃষকদের হাত ধরে আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার ঘটলে কৃষিকাজে লাভের সম্ভাবনা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

















