ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাসহ চার শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। শনিবার দিল্লিতে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও আরও পাঁচজনকে তার বাসভবনের বাইরে থেকে দিল্লি পুলিশ ও সিআরপিএফ সদস্যরা আটক করেন। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের একটি প্রিজন ভ্যানে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
রাজধানীতে এই বিক্ষোভের আগে থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছিল। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বিমানবন্দর থেকে নামার পরপরই আটক করা হয়। পরে তাদের তিনটি ভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিজেপির আইনজীবী দলের প্রধান রত্না সিং এবং ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ মোট চার শতাধিক ব্যক্তিকে আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে এবং যন্তর মন্তর ও এর আশপাশের এলাকা থেকে ৫০০ জনের বেশি মানুষকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ হলো, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় প্রক্রিয়া (এসআইআর)-এর নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশন এই যাচাই প্রক্রিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরজুড়ে ব্যারিকেড বসানো, তল্লাশি জোরদার এবং যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এমনকি কেন্দ্রীয় দিল্লির নির্দিষ্ট এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ রাখা হয়। নিরাপত্তার কারণে দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের বেশ কিছু প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ২৫০টির বেশি দূরপাল্লার ও স্থানীয় ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। সিজেপি জানিয়েছে, নেতারা আটক হলেও তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং সাধারণ নাগরিকদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি। মূলত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া প্রত্যাহারের দাবিতে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল, যদিও পুলিশ এই কর্মসূচির কোনো অনুমতি দেয়নি।

















