রাজধানীর মহাখালীতে রেলওয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা মামুন মিয়াকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার কথিত প্রেমিকা বিউটি আক্তারকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বনানী থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তারেক হাসান গত ১৪ জুলাই বিউটি আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। এরপর আদালত আসামি বিউটি আক্তারের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য করেছিলেন। নির্ধারিত দিনে আদালতে বিউটি আক্তারকে হাজির করা হলে রাষ্ট্রপক্ষে এসআই মোক্তার হোসেন রিমান্ড শুনানি পরিচালনা করেন। তবে শুনানিকালে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। শুনানি শেষে আদালত বিউটি আক্তারকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় এক বছর আগে রেল কর্মকর্তা মামুন মিয়ার সঙ্গে বিউটি আক্তারের পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে এই সম্পর্কের বিষয়টি মামুনের পরিবারের অজানা ছিল। গত ১০ জুলাই চিকিৎসার অজুহাতে ঢাকায় এসে মহাখালীর টিবি গেট এলাকায় একটি কক্ষ ভাড়া নেন বিউটি। এরপর তিনি মামুনকে ওই কক্ষে দেখা করতে ডাকেন। পরদিন ১১ জুলাই বেলা ১১টার দিকে মামুন সেখানে পৌঁছালে তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে বিউটি ছুরি দিয়ে মামুনের গোপনাঙ্গ ও পেটে আঘাত করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। মামুনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি মারা যান। ঘটনার পর নিহতের চাচা মো. শমসের আলী বনানী থানায় বিউটি আক্তারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

















