সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বর্তমানে অনেকটা অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের সামনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা কমে যাওয়ায় মারাত্মক বেঞ্চ সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে জরুরি মামলাগুলো সময়মতো শুনানিতে আসছে না এবং মামলা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে, যা বিচারপ্রার্থীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলছে।
দীর্ঘ ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে আইন পেশায় নিয়োজিত ব্যারিস্টার খোকন বলেন, আগে আপিল বিভাগে ১১ জন বিচারপতি থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে চার-পাঁচে নেমে এসেছে। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ কার্যকরভাবে কাজ না করলে এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো বিচারব্যবস্থার ওপর পড়ে। আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, আমি আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে তাদের সেন্টিমেন্ট বা মনোভাব তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করছি।
বিচার বিভাগ নিয়ে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৪৮ সালের পর থেকে কেউ এতবার নির্বাচিত হয়নি, আমি পরপর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে নির্বাচিত হয়েছি। বার কাউন্সিলেও নয় বছর দায়িত্ব পালন করেছি। আমার বিচার বিভাগের প্রতি কমিটমেন্ট আছে। তিনি মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতাকে ন্যায়বিচারের বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রধান বিচারপতির ভূমিকা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু তার কাছ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের কর্মপরিবেশ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, হাজার হাজার আইনজীবীকে সনদ দেওয়া হলেও তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বা কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, বিচারপতিদের বসার জন্য অনেক তলা বিল্ডিং করা হলেও আইনজীবীদের সমস্যার সমাধানে মাস্টারপ্ল্যান করার কথা বলা হয়েছে মাত্র।
আপিল বিভাগে এক জুনিয়র আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করার নজিরবিহীন ঘটনারও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। খোকন বলেন, একজন জুনিয়র আইনজীবী ভুল করতে পারেন, কিন্তু তাকে এত বড় অংকের জরিমানা করা হলে তিনি সমাজে মুখ দেখাবেন কীভাবে। তিনি জানান, বিচার বিভাগকে সচল করতে আইনজীবীদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ সময় তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যকর কোনো ভূমিকায় নেই।

















