মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে জনবল সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এর ফলে প্রায় চার লাখ মানুষের প্রধান ভরসাস্থল এই হাসপাতালটিতে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৬৫০ থেকে ৭০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসলেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে কর্তৃপক্ষ রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকের ৫১টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে ৩১ জন কর্মরত থাকলেও ১১ জন বিভিন্ন স্থানে সংযুক্ত রয়েছেন। ফলে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ২০ জন চিকিৎসক। এছাড়া নার্সের ৬টি, মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানের ৩টি, তৃতীয় শ্রেণির ৫টি এবং চতুর্থ শ্রেণির ৯টি পদ দীর্ঘসময় ধরে শূন্য পড়ে আছে। প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অভাবে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকছে।
আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানের অভাবে হাসপাতালের ল্যাবে রক্ত পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর ফলে রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। এছাড়া ওষুধের পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় অনেক জরুরি ওষুধ হাসপাতাল থেকে পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে রোগীদের বাইরের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায়ই ঢাকাসহ অন্যান্য বড় হাসপাতালে রেফার করতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ উভয়ই নষ্ট করছে।
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে ছয়তলা আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হলেও জনবল সংকটের কারণে এর সুফল মিলছে না। স্থানীয়দের মধ্যে এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শূন্য পদ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে স্বাস্থ্যসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

















