প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ১১
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আঞ্চলিক পাহারাদার হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই শনিবার তিনি এ কথা বলেন। ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের পার্শ্ব বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনার সময় পেজেশকিয়ান বলেন, “আমাদের কোনো আঞ্চলিক পাহারাদারের দরকার নেই।”
ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেছেন যে এই অঞ্চলের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা কেবল এখানকার মূল অংশীদার এবং দেশগুলোর মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান পুরো অঞ্চলজুড়ে পাল্টা হামলা শুরু করে এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে ফেলে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো, ফলে এই অবরোধ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অনেকটা অবাধ থাকলেও বর্তমানে ইরান সেখানে পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করেছে এবং সার্ভিস ফি নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তেহরানের এই নির্দেশ অমান্যকারী জাহাজগুলোতে নিয়মিত হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর বিপরীতে মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দিতে দেশটির উপকূলীয় এলাকায় বোমাবর্ষণ করছে। এই সংঘাত ছয় মাস পেরিয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব পড়েছে এবং চলতি সপ্তাহে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন যে ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চায় না। তিনি বলেন, “আমাদের ওপর নানামুখী অন্যায়-অবিচার সত্ত্বেও আমরা যুদ্ধ কিংবা এই সংঘাতের দীর্ঘসূত্রতা চাই না। শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল অগ্রাধিকার।” পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্যের মাধ্যমে একদিকে যেমন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার বিরোধিতা প্রকাশ পেয়েছে, অন্যদিকে চলমান সংঘাত অবসানে ইরানের আগ্রহের বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে।

















