স্পেন বিশ্বকাপ জয়ের এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর কাছে টুর্নামেন্ট কেন্দ্রিক উত্তেজনা এখনো শেষ হয়নি। বুয়েনস এইরেসের ৫২ বছর বয়সী বইবিক্রেতা পাবলো তোরেস, যিনি ‘কখনোই মিলেইকে ভোট দেননি এবং দেবেনও না’, তার মতো সাধারণ মানুষের কাছেও এই বিতর্ক পৌঁছেছে। কট্টর ডানপন্থী এই প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, তাঁর জাতীয় দলের সমালোচনা, সমর্থকদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ এবং লিওনেল মেসি ও দলকে ফিফার পক্ষ থেকে গোপনে সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি একটি সুসংগঠিত ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা’র অংশ।
স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিলেই অভিযোগ করেন, এই কথিত প্রচারণায় মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টি, ব্রাজিল সরকার অর্থায়ন করেছে। ডিজিটাল নৃবিজ্ঞানী মার্সিডিজ মাসপেরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ২০ লাখেরও বেশি পোস্ট বিশ্লেষণ করে লিখেছেন, তিনি সুসংগঠিতভাবে পরিচালনা করার ‘কিছু অনস্বীকার্য ধরণ’ খুঁজে পেয়েছেন। মিলেই দাবি করেন, লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভার নেতৃত্বাধীন ব্রাজিল সরকার এই অর্থায়নের বড় অংশ যুগিয়েছে। মিলেইর মতে, যারা মুক্ত চিন্তাধারাকে সফল হতে দিতে চায় না, এমন প্রগতিশীল মানসিকতার লোকেরাই এসবের পেছনে রয়েছে।
টুর্নামেন্ট চলাকালীন আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বর্ণবাদী আচরণের ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়। এমনকি অভিনেতা স্যামুয়েল এল জ্যাকসন ইনস্টাগ্রামে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বের অন্যতম বর্ণবাদী দেশ হিসেবে অভিহিত করেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আর্জেন্টিনাও বর্ণবাদের বিষয়টি স্বীকার করলেও, দেশটিকে নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলার সমালোচনা করে। মিলেই অবশ্য এই দায় বিরোধী দলের ওপর চাপিয়ে বলেন, তারা ‘ওক আন্দোলন’কে বৈধতা দিচ্ছে, যারা এখন দেশের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ তুলছে।
সম্প্রতি ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে লুলা দা সিলভাকে ‘চোর’ ও ‘কয়েদি’ বলে সম্বোধন করেন মিলেই। তিনি দাবি করেন, আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক আক্রমণগুলোর উৎস ব্রাজিল। ব্রাজিলের কথিত জড়িত থাকার বিষয়ে মিলেইর অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ ছিল না। কিছু সমালোচক বলেন, সর্বশেষ এ ধরনের প্রচারণার ধারণাটি রাষ্ট্রীয়ভাবে ছড়ানো হয়েছিল ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৩ সালের নির্মম স্বৈরশাসনের সময়, যে সময়কার অপরাধগুলোকে মিলেই বারবার খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। ন্যাশনাল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের গবেষক নাতালিয়া আরুগেতে জানান, আন্তঃদেশীয় আলোচনার অস্তিত্ব থাকলেও, মিলেইর অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ নেই।

















