রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২ সড়ক ও এর আশপাশের এলাকা, যা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের কাছে ‘হোপ মার্কেট’ হিসেবে পরিচিত ছিল, এখন সম্পূর্ণ হকারমুক্ত। গত বুধবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) চালানো উচ্ছেদ অভিযানের পর চিরচেনা এই এলাকাটির রূপ এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আগে যেখানে ফুটপাত ও সড়কজুড়ে ভ্রাম্যমাণ দোকানের ভিড় থাকত, এখন সেখানে প্রশস্ত ফুটপাত দিয়ে পথচারীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করছেন।
শুক্রবার বিকেলে এলাকাটিতে সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটপাতে বাঁশ-কাঠের কোনো কাঠামো বা ত্রিপল-পলিথিনের ছাউনি নেই। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে ১৩ নম্বর সেকশন পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ফুটপাত ও সড়ক এখন উন্মুক্ত। স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদা বেগম তার চার বছরের সন্তানকে নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আগে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে হাঁটার উপায় ছিল না, কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেক স্বাভাবিক। একই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন বি ব্লকের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম, যিনি দীর্ঘদিন এই যানজট ও দখলের কারণে ভোগান্তিতে ছিলেন।
উচ্ছেদ অভিযানের খবর না জেনে কাপড় কিনতে আসা সুরাইয়া মিম ও নওশীন জাহান নামের দুই শিক্ষার্থী জানান, পরিচিত মার্কেটটি না দেখে কিছুটা অবাক হলেও ফুটপাত ফাঁকা দেখে তারা খুশি। মূলত, বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ডিএনসিসি এই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। অভিযানের সময় হকার ও দোকানিদের সঙ্গে সিটি করপোরেশন কর্মী ও পুলিশের সংঘর্ষ হয়, যাতে ডিএনসিসির তিনটি গাড়ি আগুনে পুড়ে যায় এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়। এই সংঘর্ষের ঘটনায় ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানের উপস্থিতিতে অভিযান চালিয়ে ভাসমান দোকানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়।
অভিযানের আগে হোপ মার্কেট এলাকায় নারী ও শিশুদের পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, অলংকার এবং বিভিন্ন ধরনের খাবারের অস্থায়ী দোকান বসানো হতো। বি ব্লকের ১১/১ ও ১১/২ নম্বর লেন, বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদের পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং মিরপুর আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনের ফুটপাতসহ সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২ এর প্রায় ২০০ মিটার এলাকা হকারদের দখলে ছিল। এখন স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, সিটি করপোরেশন এই এলাকাটি একইভাবে দখলমুক্ত রাখবে এবং আর কোনো অবৈধ দখলদারের কবলে পড়বে না।

















