দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন এবং তিনি দলের ভেতর থেকে নাকি বাইরের কেউ হবেন—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে। শনিবার (২৫ জুলাই) বগুড়ার শেরপুরে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)-এর ৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আরও বলেন, সংবিধানের আলোকে দেশের প্রচলিত আইন ও নিয়ম-কানুন মেনেই আসন্ন বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ ধ্বংসের রাজনীতিতে বিশ্বাসী, অন্যদিকে বিএনপি বিশ্বাস করে গড়ার রাজনীতিতে। তার দাবি, গত ১৭ বছরে দেশকে একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছে, আর বিএনপি এখন সেই অবস্থা থেকে দেশ পুনর্গঠনের দায়িত্ব পালন করছে। পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শওকত রশিদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনে তিনি কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, প্রান্তিক কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষি প্রযুক্তির আধুনিকায়ন সমানভাবে জরুরি। বর্তমানে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ কমে যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কৃষিপণ্যের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। এই পরিস্থিতি বদলাতে কৃষিপণ্য সরাসরি বাজারজাতের কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ এবং কৃষি গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারে গুরুত্ব দিতে হবে।
সম্মেলনে বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে আরডিএর আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। এছাড়া বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন কৃষি খাতের আধুনিকায়ন ও কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরডিএর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. আব্দুল মজিদ প্রামানিক।

















