নবজাতক শিশুদের ঘুমের মধ্যে শরীর মোচড়ানো, মুখ লাল হয়ে যাওয়া বা বিভিন্ন শব্দ করা একটি সাধারণ বিষয়। অনেক বাবা-মা এই সমস্যা নিয়ে চিন্তিত থাকেন। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অমৃত লাল হালদার জানিয়েছেন, এই ধরনের আচরণকে ‘Benign Stretching’ বলা হয় এবং এটি সাধারণত স্বাভাবিক।
নবজাতকদের অপরিণত স্নায়ুতন্ত্রের কারণে এমন হতে পারে। মায়ের গর্ভে গুটিসুটি অবস্থায় থাকার পর শিশুরা এখন হাত-পা ছড়িয়ে চলা শিখছে। এছাড়া, নবজাতকদের ঘুমের প্রায় ৫০% সময় ‘Active Sleep’ অবস্থায় কাটে, যেখানে মুখ বাঁকানো বা মোচড়ানো স্বাভাবিক। পেটে গ্যাস জমলেও শিশুরা মোচড় দেয়। দুধ খাওয়ার সময় বাতাস ঢুকে পেটে চাপ সৃষ্টি করলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। ছোট শিশুদের মধ্যে ‘মোরো রিফ্লেক্স’ বা হঠাৎ চমকে উঠে হাত ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতাও ৩-৪ মাস পর্যন্ত স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হয়।
তবে কিছু লক্ষণ দেখলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যদি মোচড়ানোর সাথে বমি, খিঁচুনি, শরীর নীল হয়ে যাওয়া, বুকের দুধ একদম না খাওয়া, অতিরিক্ত কান্না, শরীর শক্ত হয়ে বেঁকে যাওয়া, জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা ওজন না বাড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অমৃত লাল হালদার কিছু করণীয় সম্পর্কেও জানিয়েছেন। প্রতিবার খাওয়ানোর পর শিশুকে কাঁধে নিয়ে ১০-১৫ মিনিট ঢেকুর তোলান ২। সঠিক পজিশনে বুকের দুধ খাওয়ান, যাতে বাতাস কম ঢোকে ৩। ডায়াপার ভেজা থাকলে তা পরিবর্তন করা এবং শিশুকে হালকা করে সোয়াডলিং বা কাঁথায় জড়িয়ে রাখলে তারা নিরাপদ বোধ করে ৫। জেগে থাকা অবস্থায় দিনে ২-৩ বার ‘Tummy Time’ দিন ৬। তবে, তেল মালিশ, গ্রাইপ ওয়াটার, মধু বা চিনির পানি নবজাতকদের দেওয়া উচিত নয়।
সাধারণত ৩-৪ মাস বয়সের পর এই মোচড়ানোর প্রবণতা নিজে থেকেই কমে আসে। তবে, শিশুর কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখলে নিকটস্থ শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ডা. অমৃত লাল হালদার নবজাতক ও শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে বারডেম মহিলা ও শিশু হাসপাতালে কর্মরত আছেন।
অমৃত লাল হালদার নবজাতক ও শিশু বিশেষজ্ঞ, সহযোগী অধ্যাপক বারডেম মহিলা ও শিশু হাসপাতাল, সেগুনবাগিচা, ঢাকা সিরিয়াল : ০১৬৩৬৬৯২২৯৮

















