আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, এটি বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক, নির্বাচনি ও জাতীয় অঙ্গীকার। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিএনপির দীর্ঘ ১৬ থেকে ১৭ বছরের আন্দোলনের ফসল। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ সংগ্রামের মূল লক্ষ্যই ছিল যেন মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে পারে।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রায় প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণতন্ত্রের কবর রচনা করে ফ্যাসিবাদের নীল নকশা তৈরি করা হয়েছিল। সরকার শুরু থেকেই একে সংবিধান পরিপন্থী বা ‘আল্ট্রা ভাইরাস’ হিসেবে গণ্য করেছে। হাইকোর্ট বিভাগ এই সংশোধনীর কিছু অংশ অবৈধ ঘোষণা করেছেন এবং অবশিষ্ট বিষয়গুলো জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। আপিল বিভাগও হাইকোর্টের রায় বহাল রাখায় এটি এখন চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, রায়ের আলোকে পাবলিক কনসালটেশন বা জনমত যাচাই এবং গণভোটের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক শাসনব্যবস্থার চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হবে, যারা রায়ে উল্লিখিত ৫৪টি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করবে। এক্ষেত্রে ‘জুলাই সনদ’ মূল বিবেচ্য বিষয় হিসেবে থাকবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব সংশোধন ও পরিমার্জন করা হবে।
জনমত সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী জানান, মানবাধিকার কমিশন আইনসহ বিভিন্ন আইনের খসড়া তৈরির সময় সংশ্লিষ্ট অংশীজন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, কূটনীতিক এবং ভিক্টিম পরিবারগুলোর সাথে পরামর্শ করা হয়েছে। একইভাবে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রেও সাধারণ জনগণের মতামত নেওয়া হবে। এছাড়া আগামী সংসদ অধিবেশনেই পরিমার্জিত মানবাধিকার কমিশন আইন পাসের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদসহ অন্যান্য সংস্কারের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘উচ্চ আদালতের রায় এবং জনআকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে যেখানে যেখানে অস্পষ্টতা বা সংস্কার প্রয়োজন, সব জায়গায় পরিবর্তন আনা হবে। কোনো আইন বা সংবিধান সংশোধন আমরা একতরফাভাবে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেব না।’

















