ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদিকে তাঁর জীবদ্দশায় যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শনিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জীবিত থাকা অবস্থায় ওসমান হাদির রাজনৈতিক অবস্থানকে গুরুত্ব দেয়নি, অথচ মৃত্যুর পর তাঁকে নিজেদের আদর্শিক নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছে। রাশেদ খাঁন জানান, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচন করার পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ওসমান হাদি। কিন্তু এনসিপির পক্ষ থেকে ওই আসনে রিকশাচালক সুজনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছিল।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের আমিরের ব্যক্তিগত সহকারী ও বুয়েট শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জুবায়ের ওসমান হাদিকে ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচন না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাঁকে জানানো হয়েছিল যে, সেখানে সাদিক কায়েম জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে লড়বেন। এর জবাবে ওসমান হাদি বলেছিলেন, প্রয়োজনে ৫০০ ভোট পেলেও তিনি ওই আসন থেকেই নির্বাচন করবেন। বিষয়টি নিয়ে ওসমান হাদির ভাই ওমর হাদিও ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন। তাঁর মতে, জীবদ্দশায় ওসমান হাদি জামায়াত ও এনসিপি—উভয় দলের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেছিলেন এবং এনসিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও জুলাইয়ের ঐক্য বিনষ্টের অভিযোগ তুলেছিলেন।
রাজনৈতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর সঙ্গে ওসমান হাদির দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে, যা বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিরোধ তৈরির উস্কানি হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ওসমান হাদি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনৈতিক চিন্তাকে ধারণ করতেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তাই তাঁকে বিএনপির মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা সফল হবে না। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজারের পাশে সমাধিস্থল নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, সেটিকেও অপ্রয়োজনীয় বলে অভিহিত করেন তিনি। রাশেদ খাঁনের ভাষ্যমতে, ওসমান হাদি নিজেই মৃত্যুর পর বাবার কবরের পাশে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সঙ্গে ওসমান হাদির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন জানান, গুলির শিকার হওয়ার পর নূর তাঁর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। নুরের বক্তব্যের একটি অংশ বিকৃতভাবে প্রচার করে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। পরিশেষে রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন যে, ইনকিলাব মঞ্চ, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নিজেদের স্বার্থে ওসমান হাদিকে ব্যবহার করছে। তিনি আহ্বান জানান, দলীয় রাজনৈতিক বিতর্কের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে ওসমান হাদির স্মৃতি ও আদর্শকে যথাযথ প্রেক্ষাপটে সম্মান জানানোই এখন সবার দায়িত্ব।

















