রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান শনিবার সকালে গোদাগাড়ী পৌরসভার পদ্মা নদীর ভাঙনকবলিত সারাংপুর থেকে রেলবাজার পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সকাল ১০টার দিকে তিনি নদীতীরবর্তী বিভিন্ন ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বসতভিটা, রাস্তাঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগ, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন।
পরিদর্শনকালে অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, পদ্মা নদী এই অঞ্চলের মানুষের কৃষি ও জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস হলেও প্রতি বছর নদীভাঙনের কারণে অনেক মানুষ বসতভিটা ও সম্পদ হারাচ্ছেন। তাই নদীতীরবর্তী জনপদগুলোতে ভাঙন রোধে স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার আলোচনা করা হয়েছে এবং জাতীয় সংসদেও বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সংসদ সদস্য নদীভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ স্থাপনসহ চলমান বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতিও পরিদর্শন করেন। কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ স্থাপনের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং অন্যান্য এলাকায় কাজ চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ও কার্যকরভাবে নদীভাঙন প্রতিরোধের পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, মানুষের কষ্ট লাঘব এবং নদীভাঙনের কবল থেকে বসতভিটা রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
পরিদর্শনকালে রাজশাহী জেলা শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি ড. ওবায়দুল্লাহ, গোদাগাড়ী পৌরসভা আমির আনারুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান রাজশাহীবাসীর জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার সামর্থ্য এবং তাদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ হেফাজতের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া চান।

















