ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান পাড়ার বাসিন্দা মিশন আচার্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির পরীক্ষায় তিনি সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও স্থায়ী ঠিকানা না থাকার কারণে নিয়োগপত্র পাচ্ছেন না। এই জটিলতার কারণে তার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন আপাতত আটকে আছে।
মিশন আচার্য জানান, তিনি ও তার ভাই শৈলেন আচার্য তাদের মা ময়না আচার্যের সঙ্গে ঝিনাইদহের কলাবাগান এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন। তার বাবা নন্দ আচার্য তাদের শৈশবে বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং আর ফিরে আসেননি। মা ময়না আচার্য অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেছেন এবং পড়ালেখা করিয়েছেন। মিশন এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪ দশমিক ৮৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত ১৮২ জনের মধ্যে ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও, মিশনসহ দুজন পাননি। অন্যজনের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, আর মিশনকে বাদ দেওয়া হয়েছে স্থায়ী ঠিকানা না থাকার কারণে। চাকরির আবেদনে তিনি তার ভাড়া বাসার ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন।
মিশন আচার্যের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সব শিক্ষাসনদে তার বর্তমান ভাড়া বাসার ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে। সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর পুলিশি যাচাইও সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে তাকে জানানো হয়েছে যে, তার কোনো স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যায়নি, তাই নিয়োগপত্র দেওয়া সম্ভব হয়নি।
মিশন আচার্যের মায়ের বাবার বাড়ি সদর উপজেলার পণ্ডিতপুর গ্রামে। সেখানে তাদের কোনো ভিটেবাড়ি না থাকায়, তার মামা বিষ্ণুপদ বিশ্বাস ২০২২ সালে পণ্ডিতপুরে বাড়ি করার জন্য তাকে দুই শতক জমি দিয়েছেন। কিন্তু সেখানে বাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। মিশন আশা করেছিলেন, চাকরি পেলে সেখানে বাড়ি করে পরিবার নিয়ে বসবাস করবেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, মিশন আচার্য ও তার বন্ধুরা অভিযোগ দেওয়ার পর বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত একটি সমাধানের আশা করছেন। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়টি স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে একটি জটিলতা তৈরি করেছে। তার আবেদনটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

















