দীর্ঘদিন ধরে অন্য রাজনৈতিক দলের হয়ে জয়ের কৌশল নির্ধারণ করলেও, এবার নিজেই নির্বাচনে লড়ে বাজিমাত করলেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত কিশোর। বিহারের রাজধানী পাটনার বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি ভেঙে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত কিশোরের নেতৃত্বাধীন জন সুরাজ পার্টি (জেএসপি) ৬৪ হাজার ১৫১ ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির নীরজ কুমার পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৮২৭ ভোট। ফলে ১৯ হাজার ৩২৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। এই আসনে রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) প্রার্থী রেখা কুমারী ১৪ হাজার ২৭৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।
জয়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশান্ত কিশোর জানান, মাত্র ৩০ দিনে তিনি বিজেপির ৩০ বছরের পুরনো ঘাঁটি ভেঙে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তিন মাসের মধ্যেই বাঁকিপুরে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পাবেন। শুধু আমাকে তিন মাস সময় দিন।’ বিহারের মানুষের জন্য নিজের দরজা খোলা রাখার অঙ্গীকার করে তিনি আরও বলেন, বিহারের মানুষ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বার্তা দিয়েছেন যে তারা রাজ্যের নেতৃত্বে কোনো বিতর্কিত বা অপরাধমূলক অতীতসম্পন্ন কাউকে চান না।
এদিকে, প্রশান্ত কিশোরের জয়ের পর বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘গণতন্ত্রের এই মহোৎসবে বাঁকিপুর উপনির্বাচনে জনগণ জন সুরাজকে বেছে নিয়েছে। জনগণের এই রায়কে সম্মান জানিয়ে প্রশান্ত কিশোরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।’
উল্লেখ্য, বাঁকিপুর আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। এই আসনের সাবেক বিধায়ক নীতিন নবীন একাধিকবার নির্বাচিত হওয়ার পর দলের জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। এই উপনির্বাচনটি ছিল বিহারের তরুণ ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থান যাচাইয়ের একটি বড় পরীক্ষা। প্রার্থী মনোনয়ন নিয়েও জটিলতায় পড়েছিল বিজেপি; মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগের দিন অভিষেক কুমার সিনহা পারিবারিক কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়ালে দলটি যুবনেতা নীরজ কুমারকে প্রার্থী করে। একই সময়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এই নির্বাচনকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছিল।

















