কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাদের প্রতি পরিবারের দায়িত্ববোধ বাড়ানো এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। সম্প্রতি কুমিল্লায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে তিনি সমাজের গভীরে থাকা মানসিক সংকট ও উদাসীনতার বিষয়টি সামনে এনেছেন। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, মেয়েটি তিনদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পরও তার বাবা-মায়ের মধ্যে যে স্বাভাবিক উদ্বেগ থাকা প্রয়োজন ছিল, তা তিনি লক্ষ্য করেননি, যা সমাজের বিদ্যমান মানসিক সংকটেরই প্রতিফলন।
গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার একটি ধানক্ষেত থেকে পুলিশ ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত স্কুলছাত্রী যশোর সদর উপজেলার আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা রিজিয়নে কর্মরত এবং তারা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নয়ন ও পরিবর্তন ঘটলেও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশুদের চলাফেরায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিপদের সময় দ্রুত সহায়তার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের স্কুলের বাইরে নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত না হওয়ায় মায়েদের ফুটপাতে কাগজ বিছিয়ে অপেক্ষা করতে হয়, যা সমাজের নিরাপত্তাহীনতারই চিত্র।
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির মতো অপরাধ দমনে দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, এর জন্য মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। সরকার এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে বলেও তিনি জানান।
পাশাপাশি কন্যাশিশু ও কিশোরীদের শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি প্রতিটি উপজেলায় কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক সহায়তা সহজলভ্য করার আহ্বান জানান।
জানা যায়, ওই স্কুলছাত্রী যশোর সদর উপজেলার আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। নিহতের বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা রিজিয়নে চাকরি করেন। তারা কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।
















