প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনীত করার চূড়ান্ত ক্ষমতা বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেছে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির ৭ জন সদস্য এবং ১ জন বিশেষ আমন্ত্রিত প্রতিনিধি। বৈঠকে মোট ১২৩টি সাংগঠনিক প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, প্রেসিডেন্ট পদে দলীয় প্রার্থী নির্বাচন এবং নির্বাচনের সময়সূচিসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর ওপর অর্পণ করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাংগঠনিক বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক এখতিয়ার অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারে। কমিশন জানিয়েছে তারা নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত। তফসিল ঘোষণার পর দলীয় প্রার্থী কে হবেন, তা চূড়ান্ত করবেন তারেক রহমান। তিনি আরও জানান, একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার নিয়ম রয়েছে, যা স্পিকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করবে।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা দলের একাধিক সদস্য জানান, ৯০ দিনের সাংবিধানিক সময়সীমার মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে আগস্ট মাসেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যদিও অনেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের কথা বলেছিলেন। তবে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কারণে আগস্টেই নির্বাচন সম্পন্ন করার দিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
শনিবারের এই বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

















