ডেঙ্গু মশার বংশবিস্তার রোধে প্রতিটি নাগরিক ও পরিবারকে সপ্তাহে অন্তত দু’দিন করে আধা ঘণ্টা সময় ব্যয় করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, প্রত্যেকের উচিত নিজের ঘরবাড়ি, আশপাশের এলাকা এবং প্রতিদিন চলাচলের পথে যেসব স্থানে মশার প্রজনন হতে পারে, সেসব জায়গা পরিষ্কার রাখা।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, বিশেষ করে জমে থাকা পানি ও আবর্জনা পরিষ্কার করা। ঘরের আনাচে-কানাচে কিংবা রাস্তাঘাট ও জনসমাগমস্থলে জমে থাকা পানিতে ডেঙ্গু মশা বংশবিস্তার করে। এসব প্রজননস্থল নির্মূল করতে পারলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বড় ধরনের সফলতা আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তারেক রহমান বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষ অসুস্থ হচ্ছেন এবং অনেকের মৃত্যুও ঘটছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বহু পরিবারকে স্বজন হারানোর বেদনা থেকে রক্ষা করা সম্ভব। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল করেছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এসব বড় অর্জন সম্ভব হলে দেশের অন্যান্য সমস্যা সমাধানে কেন সবাই মিলে অবদান রাখা সম্ভব হবে না?
তিনি জানান, দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় আড়াই কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়া বিএনসিসি, স্কাউটস, গার্ল গাইডস ও রেড ক্রিসেন্টের প্রায় ৪০ লাখ সদস্য প্রায় এক মাস ধরে প্রতি শনিবার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
ডেঙ্গু টিকার কার্যকারিতা সীমিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, টিকার ওপর নির্ভর করার চেয়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা বেশি কার্যকর। সরকার জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে চায়। পরিশেষে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বহু রোগীর প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব এবং সবাই সচেতন হলে আগামী দিনে ডেঙ্গুর অভিশাপ থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করা যাবে।

















