দেশের টেক্সটাইল বা বস্ত্র খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো পর্যালোচনা এবং তা সমাধানের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই কমিটিতে অর্থ উপদেষ্টা এবং বাণিজ্যমন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠকে বিটিএমএ নেতারা দেশের অর্থনীতিতে বস্ত্রশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন এবং এই খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় তারা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে বস্ত্র খাতের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী এ খাতের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বিটিএমএ সভাপতি জানান, টেক্সটাইল খাতের সমস্যাগুলো দীর্ঘদিনের এবং পুরনো। বিগত কোনো সরকারই এসব জটিলতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও এই খাতের সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে আনুমানিক দেড় বছর সময় লাগতে পারে। উদ্যোক্তারা সরকারকে এই সময় দেওয়ার বিষয়েও আশ্বস্ত করেছেন। সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা থাকলে বস্ত্র খাত ঘুরে দাঁড়াবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সভায় গ্যাস ও বিদ্যুতের পাশাপাশি এই খাতের আর্থিক সংকট নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে সরকার এই খাতে ৫ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশে অন্তত ১৫ লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তিনি আরও জানান, গঠিত নতুন কমিটি আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠকে বসবে।
সাক্ষাৎকালে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল ছাড়াও সংগঠনের সহ-সভাপতি শামীম ইসলাম, সাবেক সভাপতি এ. মতিন চৌধুরী, সাবেক পরিচালক সৈয়দ এনায়েত কবির, ইঞ্জিনিয়ার রাজীব হায়দার, বর্তমান পরিচালক চৌধুরী মোহাম্মদ হানিফ সোয়েব ও বাদশা মিয়া উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আমানত শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান হেলাল মিয়া এবং মুন্নু ফেব্রিক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিউল ইসলামও বৈঠকে অংশ নেন।

















