দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে চলা তীব্র গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গাড়ি ও বাড়িতে গ্যাসের তীব্র অভাব এবং শিল্পকারখানায় উৎপাদন তলানিতে নেমে আসায় রপ্তানি বাণিজ্যসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধসের উপক্রম হয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সরাসরি নিজের তদারকিতে নিয়েছেন এবং এর কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা, সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় এলএনজি কার্গো ক্রয় এবং সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারার বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে। প্রায় ২৫ বছর পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছে বর্তমান সরকার, যেখানে ২০০১ সালের পর এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি বিভাগের ব্যর্থতার দায় স্পষ্ট হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জ্বালানি বিভাগের কার্যক্রম নিয়মিত জানাতে প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা রেহান আসিফ বুধবার জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে তার আরও কয়েক দিন সময় প্রয়োজন।
এদিকে, ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব ফজলুল হকের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটিকে কোম্পানিটি কোনো ধরনের সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। আংশিকভাবে সেটি ৬ আগস্ট ঠিক হলেও এখনো সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। কমিটির সদস্যরা জুলাই মাসের শেষে মাতারবাড়ি গিয়েও টার্মিনালে ওঠার অনুমতি পাননি। এমনকি সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীও টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে অনুমতি না পেয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হন। টার্মিনালটিতে দৈনিক ২ লাখ ৩০ হাজার ডলারের বেশি ভাড়া দেওয়া হলেও তারা সরকারি তদন্ত দলকে বাধা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার বিকাল ৫টা থেকে এলএনজি কার্গোর অভাবে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে শুধু সামিটের টার্মিনাল থেকে দিনে ৫৬ থেকে ৫৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যায় সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ ২২০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে আসে। একই দিনে বিদ্যুতের চাহিদা ১৫ হাজার ৫০৪ মেগাওয়াট থাকলেও সরবরাহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস সংকটের কারণে শত শত কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং হাজারো শ্রমিক বেকার হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে জ্বালানি বিভাগকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বুধবার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় ৪০টি কোম্পানির ২৫টি কার্গো কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। ২৩ আগস্ট বিপি সিঙ্গাপুর থেকে একটি কার্গো আসার কথা রয়েছে, যা গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

















