রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তেল ও জ্বালানি পণ্যসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে রাশিয়ার ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞাগুলোকে আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতেই মস্কো এমন কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে।
সোমবার এ সংক্রান্ত একটি ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। রাশিয়ার সরকারি আইনি তথ্য পোর্টালে প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, পশ্চিমা রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ‘আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বৈরী কর্মকাণ্ডের’ জবাবে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন এই বিধিনিষেধের অধীনে রুশ তেল শোধনাগারগুলোর প্রক্রিয়াজাতকরণের পরিমাণ এবং উৎপাদিত জ্বালানি পণ্যের তথ্য এখন সীমিত প্রবেশাধিকারের আওতায় চলে এসেছে। একই সঙ্গে রপ্তানি করা জ্বালানি পণ্যের নাম, পরিমাণ ও মূল্য, বিক্রেতা-ক্রেতা ও মধ্যস্থতাকারীদের পরিচয়, লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য, সরবরাহের সময়সূচি, পরিবহনযানের বিবরণ এবং পরিবহনপথ, টার্মিনাল ও সংরক্ষণাগারের ভৌগোলিক অবস্থানের তথ্য প্রকাশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া তেল ও জ্বালানি পণ্যের ‘সমন্বিত শুল্ক পরিসংখ্যান’ এবং সম্ভাব্য বিক্রির পরিমাণকেও সীমিত তথ্য হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।
ডিক্রি অনুযায়ী, গণমাধ্যম ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে এসব তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। তবে কোনো কোম্পানি যদি নিজস্ব কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করে, তবে তা এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া তথ্যের মালিকের অনুমতি সাপেক্ষে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার দেওয়া যাবে এবং আইনগত ক্ষমতাবলে সরকারি সংস্থাগুলো এসব তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
নতুন এই বিধিনিষেধের আওতায় কোন কোন পণ্য পড়বে তার কোড নির্ধারণ এবং সরকারি ব্যবস্থায় থাকা তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রক্রিয়াকরণের নিয়ম অনুমোদনের জন্য সরকারকে ১০ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

















