‘সবার উপরে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারি কাজে অসহযোগিতা ও অবহেলা প্রদর্শনকারী কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে, সরকারের বাজেট বরাদ্দের বিপরীতে যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়নে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সেগুলোর কারণ অনুসন্ধানেরও নির্দেশনা দিয়েছে কমিটি।
১৪ অক্টোবর বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমেদ এমপি। সভায় কমিটির সদস্য হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীসহ এ. বি. এম. আশরাফ উদ্দিন (নিজান), শাহজাহান চৌধুরী, মো. আমিরুল ইসলাম খান, ফখর উদ্দিন আহমেদ, রেহেনা আক্তার রানু ও মো. নূরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।
বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সভাপতি সাঈদ আহমেদ বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনগত, প্রশাসনিক বা বাস্তব কোনো বাধা থাকলে তা স্পষ্টভাবে কমিটির কাছে উপস্থাপন করতে হবে। কোনো তথ্য গোপন না করে প্রাসঙ্গিক নথি ও বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের মনে রাখতে হবে যে তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর নয়। তাই প্রচলিত ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।
নাগরিক সেবার মান উন্নয়ন ও কাজের গতি বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, ডিজিটাল সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে নাগরিকদের সময়, অর্থ ও শ্রম সাশ্রয় করতে হবে। অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সেবার মান সহজ ও দ্রুত করার নির্দেশনা দেন তিনি।
বৈঠকের শুরুতে বিএনপি ও ঢাকা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। এছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।
উল্লেখ্য, বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, বিয়াম ফাউন্ডেশন, জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমি (নাডা) এবং জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি (এনএপিডি)।

















