মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার এই হামলার পর বিমানবন্দরটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স রিয়াদগামী তাদের ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায়।
অনিবার্য পরিচালনগত কারণ দেখিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের নির্ধারিত দুটি ফ্লাইট, বিজি৩৩৯ ও বিজি৩৪০, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেছে। বিমান কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের এই মুহূর্তে বিমানবন্দরে না যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। ফ্লাইটগুলোর সময়সূচি পরিবর্তন বা পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে রোববার, ১১ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফ্লাইট স্থগিতের কারণে যাত্রী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের যে অসুবিধা হয়েছে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য বিমানের কল সেন্টারে যোগাযোগ অথবা নিকটস্থ বিক্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের হামলার পর বিমানবন্দরের কিছু অংশ খালি করে দেওয়া হয়। এর আগে বৃহস্পতিবারও একই বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে সৌদিয়ার একজন পাইলটসহ তিনজন সৌদি নাগরিক নিহত হন এবং একটি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও আগের বেশ কয়েকটি হামলার দায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা স্বীকার করলেও শনিবারের ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক অভিযান জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থার তথ্যানুযায়ী, শনিবারের হামলার আগের ২৪ ঘণ্টায় রিয়াদ বিমানবন্দরের অন্তত ২২৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল। এদিকে রিয়াদে হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি জোটের অভিযানে তার দেশ যুক্ত হতে পারে কি না, তা নিয়ে তারা পর্যালোচনা করছেন।

















