সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফের হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিমানবন্দর এলাকাটি খালি করে দেয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরে জরুরি অবস্থা তৈরি হয়। রয়টার্সের একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার পর এক ডজনেরও বেশি অ্যাম্বুলেন্সকে বিমানবন্দরের দিকে দ্রুত গতিতে ছুটে যেতে দেখা গেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নির্দেশ দিয়েছে, কোনো ফ্লাইটের বিষয়ে নিশ্চিত হতে তারা যেন আগে নিজ নিজ উড়োজাহাজ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি, ফলে হতাহতের সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো অস্পষ্ট।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার দায় স্বীকার করে আসছে। গত বৃহস্পতিবার দুটি হামলায় এক পাইলটসহ তিন সৌদি নাগরিক নিহত হওয়ার কথা শুক্রবার নিশ্চিত করেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ৬ ও ৭ অক্টোবর সৌদি আরবের দুটি বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় আরও তিনজন প্রাণ হারিয়েছিলেন। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব সরকারপক্ষকে সমর্থন দেওয়ায় এর প্রতিবাদ হিসেবে হুতিরা এসব হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে। বর্তমানে ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় একটি অংশ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের লড়াই নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে।
লোহিত সাগরের উপকূলীয় কৌশলগত এলাকা, বিশেষ করে মোখা বন্দর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত বেড়েছে। ২০১৫ সালে হুতিদের ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টা ঠেকাতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট গঠিত হয়। দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ২০২২ সালে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গত জুলাই থেকে তা ভেঙে পড়তে শুরু করে। এরপর হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘সামুদ্রিক অবরোধ’ ঘোষণা করে এবং বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও লোহিত সাগরের ট্যাংকার লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। গোষ্ঠীটির দাবি, সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অবরোধ এবং সানার বিমানবন্দরে বিমান হামলার জবাব হিসেবেই তারা এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।

















