রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসার কথা থাকলেও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তা পৌঁছাতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া ভিন্ন রুটে আগামী মাসে জ্বালানির চালান পাঠানোর চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হয় এবং সেসব দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের জন্য আগাম অনুমতি প্রয়োজন হয়। গত ২৪ সেপ্টেম্বরের চালানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে উড়োজাহাজটি বাংলাদেশে আসতে পারেনি।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি প্রথমে গত জুন মাসে আসার কথা ছিল, যা পরবর্তীতে দুই দফা পিছিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়। রাশিয়াতে নির্ধারিত উড়োজাহাজে জ্বালানি তোলার প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছিল এবং বাংলাদেশেও চালান গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটম জানায় যে চালান পাঠাতে বিলম্ব হবে। কোন দেশের আকাশসীমার অনুমতি না পাওয়ায় ফ্লাইটটি আসতে পারেনি, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
প্রকল্প কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই বিলম্ব রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ ও কমিশনিংয়ের কাজে তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব ফেলবে না, কারণ জ্বালানি লোডিং পর্যায়ে যেতে এখনও সময় লাগবে।
এর আগে, রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম জ্বালানির সাতটি চালান এসেছিল, যা ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছায়। দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আরও সাতটি চালান আসার কথা রয়েছে, যা আগামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই সাতটি চালানে মোট ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি থাকবে।
প্রথম ইউনিটের প্রয়োজনীয় জ্বালানি ইতোমধ্যে রিঅ্যাক্টরে লোড করা হয়েছে। তবে, নির্দিষ্ট সময় পর পর ব্যবহৃত জ্বালানির অংশ পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়। এ কারণে প্রথম ইউনিটের পরবর্তী পর্যায়ের কিছু জ্বালানিও দ্বিতীয় ইউনিটের চালানের সঙ্গে আনা হবে।
পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিধি মেনে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। রাশিয়া থেকে আসা জ্বালানি প্রথমে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এরপর সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় বিশেষ যানবাহনে সড়কপথে তা পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিটের জ্বালানিও একই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আনা হয়েছিল।
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত রূপপুর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যেখানে ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।

















