বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও ইউট্যাবের যৌথ উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও জনগণের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বয়ান দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, দিল্লিতে বসে রাজনৈতিক তৎপরতা চালানো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী এবং এই দায় ভারত এড়াতে পারে না। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা এবং তার কুশীলবদের বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। বরং তিনি গণঅভ্যুত্থানকারীদের জঙ্গিবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ হত্যার প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন বলেন, আকাশ থেকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে গুলি করে সাধারণ মানুষকে হত্যার পরও তাকে গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে ভারত স্বীকৃতি দিতে পারে কি না, সেটিই আমাদের প্রশ্ন। তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একজন দণ্ডিত অপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভারতে বসে বিশ্বমিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন, যা সমর্থনযোগ্য নয়।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই, তবে তা হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা ও সম্মানের ভিত্তিতে। তিনি স্পষ্ট করেন, আমরা কখনোই আওয়ামী লীগ হতে পারি না এবং বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রাখাই আমাদের লক্ষ্য।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটি মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের ফসল নয়, বরং ১৭ বছরের ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি। তিনি শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণ এবং সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি প্রবর্তনের পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। এছাড়া চেক অ্যান্ড ব্যালান্স নিশ্চিত করতে আপার হাউস ও লোয়ার হাউসের মধ্যে ভারসাম্য আনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে খাটো করে দেখে বা চেতনা বিক্রির রাজনীতি করতে চায়, বাংলাদেশে তাদের দিন শেষ। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন না করতে পারলে তাদের রাজনীতি করার অধিকার থাকবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আমরা চেতনা বিক্রির রাজনীতি বহুবার দেখেছি। ১৯৭১-এর চেতনা বিক্রির রাজনীতি বাংলাদেশে মারাত্মকভাবে ফেল করেছে। আমরা ভবিষ্যতে চেতনা বিক্রির রাজনীতি করতে চাই না। যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্বকে বিচ্ছিন্ন করতে চায় এবং তার ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক দল গঠন বা রাজনীতি করতে চায়, তাদের কাছে আমার বক্তব্য—বাংলাদেশে আর চেতনা বিক্রির রাজনীতি চলবে না।

















