প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮: ৩৩ আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮: ৪০
সৌদি আরবকে বিনিয়োগ, পর্যটন ও বিশ্বমানের ক্রীড়া আয়োজনের একটি বৈশ্বিক কেন্দ্রে রূপান্তরের যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিয়েছিলেন, তা এখন নতুন করে চাপের মুখে। ইয়েমেন থেকে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় দেশটির বিভিন্ন শহর আক্রান্ত হচ্ছে, যা রিয়াদকে সেই আঞ্চলিক সংঘাতের গভীরে ঠেলে দিচ্ছে, যা থেকে তারা দূরে থাকতে চেয়েছিল। গত ১১ বছর ধরে সৌদি আরব সামরিক শক্তি ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে দক্ষিণ সীমান্তের এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি শান্তি আলোচনার পথও খোলা রেখেছিল দেশটি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এর জবাবে হুথিরা যুদ্ধবিরতি শেষ বলে ঘোষণা করে এবং সৌদি জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ আরোপের কথা জানায়। একই সঙ্গে ইয়েমেনের উপকূল ধরে দ্রুত অভিযান চালিয়ে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড দখল করে তারা। বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় এই অগ্রযাত্রা ২০২২ সালের পর সংঘাতের সবচেয়ে বড় উত্তেজনা তৈরি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৌশলগত ভুল এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব সৌদি আরবকে এই সংকটে ফেলেছে। গত বছর ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বে ফাটল ধরে। আমিরাতের সেনা প্রত্যাহারের পর সেখানে তৈরি হওয়া নেতৃত্বের শূন্যতা সৌদি আরব পূরণ করতে পারেনি। স্থানীয় মিত্রদের সহায়তায় রিয়াদ এখন ‘ইয়েমেনের ভোর’ বা ‘ইয়েমেনস ডন’ নামে নতুন অভিযান শুরু করেছে।
চলতি সপ্তাহে হুথিদের হামলায় কয়েকটি বিমানবন্দরে আঘাত হানার ঘটনায় সৌদি পাইলটসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এই অস্থিরতার কারণে দেশটিতে আয়োজিত বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসব, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ও সংগীত কনসার্ট স্থগিত করতে হয়েছে। এমনকি অক্টোবরের শেষদিকে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সম্মেলনটিও এখন অনিশ্চয়তার মুখে। সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল র্যাটনি বলেন, সৌদি আরব চেয়েছিল সংঘাত যেন তাদের রূপান্তর পরিকল্পনায় বাধা না হয়, কিন্তু এখন দেশটি নিজেই সংঘাতের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা না পাওয়া সৌদি আরবকে অরক্ষিত করে তুলেছে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বললেও হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের অনুরোধে সাড়া পায়নি রিয়াদ। এর ফলে সৌদি আরব এখন ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সহযোগিতা নিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার চেষ্টা করছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সক্রিয় করার বিষয়েও একমত হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বাইরের সহায়তা বা বিচ্ছিন্ন সামরিক সাফল্য দিয়ে ইয়েমেনের এই দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

















