নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে এক স্কুলশিক্ষককে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে দাউদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আফজাল মোল্লার বিরুদ্ধে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কালনী হিরনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক একরামুন্নেছা বিউটি। বৃহস্পতিবার সকালে দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে আফজাল মোল্লাকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষক একরামুন্নেছা বিউটি জানান, ২০২৪ সালের ১০ থেকে ১২ আগস্টের মধ্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে আফজাল মোল্লার সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধের জের ধরে বুধবার দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আওলাদ হোসেন খানের নির্দেশে লাইব্রেরিতে প্রবেশ করে আফজাল মোল্লা তাকে লাঞ্ছিত করেন এবং কিল-ঘুষি মেরে আহত করেন। ওই সময় বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের আওয়ামী লীগের দোসর বলে গালিগালাজ করে চলে যান। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আজ দুপুরে স্কুল প্রাঙ্গণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষকদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা ঘটনার বিচারের দাবিতে ক্লাস বর্জন করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে আফজাল মোল্লা মোবাইল ফোনে দাবি করেন, বিউটি আওয়ামী লীগের দালাল। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি। এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন খান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এমন পরিস্থিতি হবে তা তিনি বুঝতে পারেননি। রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন জানিয়েছেন, ঘটনার সত্যতা প্রাথমিক তদন্তে পাওয়ায় আফজাল মোল্লাকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং দলীয় কেউ অন্যায় করলে তাদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে। এছাড়া রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিক জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তিনি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন।
















