অপরাধ

জোহানেসবার্গে ১১ নারীর মরদেহ উদ্ধার: দক্ষিণ আফ্রিকায় ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের আতঙ্ক

প্রতিবেদক
সব খবর

দক্ষিণ আফ্রিকার বাণিজ্যিক রাজধানী জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে শহরটির আশপাশে উদ্ধার হওয়া নারীদের মোট সংখ্যা ১১-তে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ মরদেহটি রোববার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে একুরহুলেনি পৌরসভার একটি খোলা মাঠ থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই এলাকায় টহলরত একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা মরদেহটি দেখে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার ব্রেন্ডা মুরিদিলি জানিয়েছেন, নিহত ওই নারীর পরিচয়, বয়স কিংবা মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগের দিন শনিবার একই পৌরসভার একটি কবরস্থানের কাছে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান টমি মথোমবেনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ওই নারীকে পাথর দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তবে ময়নাতদন্তের পর সঠিক কারণ জানা যাবে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূর থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ধারাবাহিক এসব ঘটনায় পুলিশের হেফাজতে মোট চারজন সন্দেহভাজন রয়েছেন।

একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডগুলো পরস্পর সম্পর্কিত কি না তা খতিয়ে দেখছে, যদিও একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সব ঘটনার সঙ্গে জড়িত এমন কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ এখনো মেলেনি। প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান মথোমবেনি এসএবিসিকে জানান, কিছু হত্যাকাণ্ডের মধ্যে মিল থাকলেও সবগুলোকে একই সূত্রে গাঁথার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর উদ্ধার হওয়া নবম মরদেহটিকে তদন্তকারীরা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন এবং ওই ঘটনায় দুই নারীকে গ্রেপ্তার করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত জুলাই ও আগস্ট মাসে একুরহুলেনির ছয় কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি মরদেহ পাওয়া গিয়েছিল। এরপর চলতি মাসের শুরুতে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে আরও ছয়টি মরদেহ উদ্ধার হয়। শনিবারের ঘটনার আগে উদ্ধার হওয়া নারীদের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল এবং তাদের কয়েকজনকে বিবস্ত্র বা আংশিক বিবস্ত্র অবস্থায় পাওয়া যায়। জুলাইয়ের মাঝামাঝি উদ্ধার হওয়া প্রথম নারীর মরদেহটি ছিল বৈদ্যুতিক তারে বাঁধা। দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার হার অত্যন্ত বেশি, যেখানে পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে ১৫ জন নারী হত্যার শিকার হন। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একে দক্ষিণ আফ্রিকার পুরুষদের জন্য লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেছেন। পুলিশ বর্তমানে তদন্ত জোরদার করেছে।

সব খবর