বাংলা সিনেমার জীবন্ত কিংবদন্তি নায়িকা শবনম ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘আজীবন সম্মাননা’য় ভূষিত হতে যাচ্ছেন। আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে তিনি এই সম্মাননা গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এবারই প্রথম শবনম বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত হতে যাচ্ছেন।
এই বিশেষ প্রাপ্তি নিয়ে শবনম বলেন, ‘এরই মধ্যে আমাকে মন্ত্রণালয় থেকে ফোন করা হয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশে এটাই প্রথম আমার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হতে যাচ্ছে এবং অনুষ্ঠানে আমাকে যেহেতু কিছু বলতে হবে, তাই আমাকেও বলার জন্য প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। কারণ, আমার বয়স হয়েছে। অনেক কথা বলতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলি। তাই আগে থেকেই সবকিছু ঠিকঠাক করে নিচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রের প্রতি, রাষ্ট্রের মানুষের প্রতি, বাংলা সিনেমার দর্শকের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ যে, আমাকে এখনো তারা ভালোবাসেন। দর্শকের ভালোবাসা নিয়েই আমি আজও মনে বেশ সুখ নিয়েই বেঁচে আছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’
শবনমের আসল নাম ঝরনা বসাক। তার বাবা ননী বসাক ছিলেন একজন প্রখ্যাত ফুটবলার এবং মা উষা বসাক। ননী বসাকের সঙ্গে প্রয়াত চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেতা খান আতাউর রহমানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। শবনম পুরান ঢাকার বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে নাচ শিখতেন। সেখানে ইস্কাটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার নৃত্য দেখে খান আতাউর রহমানের ভালো লেগে যায় এবং তিনি শবনমের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এরপর জহির রায়হানের ‘কখনো আসেনি’ সিনেমায় খান আতার বোনের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে শবনমের বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে। পরবর্তীতে মুস্তাফিজের পরিচালনায় নায়ক রহমানের বিপরীতে ‘হারানো দিন’ সিনেমায় তিনি প্রথমবার নায়িকা হিসেবে কাজ করেন। এই সিনেমার ‘আমি রূপনগরের রাজকন্যা রূপের জাদু এনেছি’ গানটি আজও জনপ্রিয়। শবনম পুরান ঢাকার বাংলা বাজার স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। দেশ স্বাধীনের পর অশোক ঘোষের ‘নাচের পুতুল’ সিনেমায় তিনি অভিনয় করেন, যেখানে তার বিপরীতে ছিলেন নায়ক রাজ রাজ্জাক। এই সিনেমার ‘আয়নাতে ওই মুখ দেখবে যখন’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

















