কাগজে-কলমে স্পেনের দলটিকে ফ্রান্সের মতো তারকাখচিত মনে না হলেও, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তারা এক ভিন্ন দর্শনের ফুটবল উপহার দিয়েছে। ব্যক্তিগত প্রতিভার ওপর নির্ভর না করে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা পুরো ম্যাচে দলীয় ঐক্য, সমন্বয় ও ছন্দ বজায় রেখে ফ্রান্সের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে। এই কৌশলী ফুটবলের সুবাদেই ২-০ গোলে জয় নিশ্চিত করে তারা বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছে।
ম্যাচটিতে ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সামর্থ্যের যোগফল তাদের দলীয় পারফরম্যান্সের চেয়ে কম মনে হয়েছে। অন্যদিকে, স্পেনকে প্রতিটি পজিশনে ফ্রান্সের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে দেখা গেছে। দলের প্রতিটি খেলোয়াড় নিজেদের দায়িত্ব এমনভাবে পালন করেছেন, যাতে একজনের শক্তি অন্যজনকে কার্যকর করে তুলেছে এবং একে অপরের দুর্বলতা ঢেকে দিয়েছে। স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের গতি, অবস্থান এবং নিখুঁত বোঝাপড়া ছিল চোখে পড়ার মতো।
এই জয়ের অন্যতম নায়ক টটেনহামের ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরো। রক্ষণভাগ সামলানোর পাশাপাশি দ্বিতীয়ার্ধে দলের জয়সূচক গোলটিও করেছেন তিনি। ম্যাচশেষে পোরো জানান, বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা তাঁর জন্য স্বপ্নপূরণের মতো। তিনি বলেন, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তারা দারুণ খেলেছেন এবং ফাইনালে ওঠার জন্য যা যা প্রয়োজন ছিল, তার সবই করেছেন। ২৬ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার পুরো দলকে কৃতিত্ব দিয়ে বলেন, এটি কোনো একজনের সাফল্য নয়, ২৬ জন খেলোয়াড়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।
ফ্রান্সকে তাদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে না দেওয়ার কৌশল সম্পর্কে পোরো ব্যাখ্যা করেন, বলের দখল ধরে রেখে ফ্রান্সের পাল্টা আক্রমণের শক্তিকে নস্যাৎ করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। ম্যাচ চলাকালীন ক্লান্তির কারণে বদলি হিসেবে মাঠ ছাড়লেও পোরো জানান, বিশ্রাম নিয়ে তিনি আবারও ফাইনালে সব উজাড় করে দিতে প্রস্তুত। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের আগে স্পেনের হয়ে গোল না পাওয়া পোরো চলতি আসরে দুটি গোল করেছেন, যার সর্বশেষটি স্পেনকে ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো ফাইনালে পৌঁছে দিল।
তাতে ফ্রান্সকে ২–০ গোলে হারিয়ে নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপের ফাইনালও।.ব্যাপারটা এমন নয় যে ফ্রান্স ব্যক্তিগত নৈপুণ্য আঁকড়ে ধরে ছিল বা দলীয় ঐক্যের ভিত্তিতে খেলার চেষ্টা করেনি।

















