পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। তবে উপযুক্ত সময় ও পরিবেশ তৈরি হলে এবং দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সুবিধাজনক সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও জানান, এই সফরের জন্য কোনো তাড়াহুড়া নেই এবং পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই সফরের সময় ঠিক করা হবে।
ভারতের দিল্লিতে গত ২৯ আগস্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বক্তাদের নিয়ে আয়োজিত একটি সেমিনারের অনুমতি দিল্লি পুলিশ কর্তৃক বাতিল করার বিষয়টি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তিনি একে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার আলোচনা স্থবির হয়ে যাওয়ার গুঞ্জন নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ না হওয়া মানেই আলোচনা থেমে যাওয়া নয়। ৫ আগস্টের ঘটনার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনা নিয়েও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন হুমায়ুন কবির। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কোনো চাপের মুখে নয়, বরং এভিয়েশন খাতের চাহিদা মেটাতেই এই উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। দেশের এভিয়েশন হাব হিসেবে সক্ষমতা বাড়াতে এবং নতুন রুট চালুর লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকায় বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে এবং এর বাইরেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে ৭০ থেকে ৮০টি উড়োজাহাজের চাহিদা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, নীতিগতভাবে বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ের সঙ্গেই বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রয়েছে এবং সরকার বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে চমৎকার ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করছে। এছাড়া, ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসী যেন ঢাকায় আশ্রয় না পায় এবং একইভাবে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসী যেন ভারতের ভূখণ্ডে আশ্রয় না পায়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

















