রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তার বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এই দাবিতে তারা আজ শনিবার উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। এ সময় তাদের পাশে ছিলেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার।
আরিফুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র এবং ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে নির্বাচিত হল সংসদের জিএস। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে তার ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করে একটি তদন্ত কমিটি। গতকাল শুক্রবার এই কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করেন উপাচার্য।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, গত ৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্রের মহড়া ও দেশীয় অস্ত্র মজুতের ছবি-ভিডিও প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন আরিফুল। এর জেরে সেদিন সন্ধ্যায় সশস্ত্র ব্যক্তিরা শহীদ জিয়াউর রহমান হলে তার কক্ষে ভাঙচুর চালান। এ সময় ৮ থেকে ১০ জন সাংবাদিকের ওপর হামলা হয়, যাদের কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি হামলাকারী ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ না করে আরিফুলের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ করেছে। তারা এই সিদ্ধান্তকে একপাক্ষিক ও বৈষম্যমূলক বলে দাবি করেন।
স্মারকলিপিতে আরিফুলের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ প্রত্যাহার এবং অস্ত্রের মহড়া, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হলে ভাঙচুরে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানানো হয়।
রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আমরা আশা করি, সিন্ডিকেটে উপাচার্য বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবেন।’ তিনি আরও বলেন, আরিফুলের সঙ্গে যাদের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে, তাদের কেউ পড়াশোনা ছেড়েছেন, কেউ প্রক্সি পরীক্ষার্থী, আবার কেউ পুরোনো শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে একজন নিয়মিত শিক্ষার্থীর পরিস্থিতি এক করে একই ধরনের শাস্তির সুপারিশ বৈষম্যমূলক।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘এখন এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার মতো কিছু নেই।’

















