টাঙ্গাইলে পৃথক হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হাফিজুর রহমান এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ.ন.ম. ইলিয়াস এই রায় ঘোষণা করেন।
স্ত্রী হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম শাহিনুর রহমান। তিনি বাসাইল উপজেলার ছামাদ মিয়ার ছেলে। মামলার নথি থেকে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে স্বপ্নার সঙ্গে শাহিনুরের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এর জের ধরে ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর ভোরে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শাহিনুর তার স্ত্রী স্বপ্নাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা আহত স্বপ্নাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্বজন মুন্নান মিয়া বাদী হয়ে বাসাইল থানায় মামলা করেন। ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত শাহিনুরকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
অন্যদিকে, অপর একটি রায়ে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সখীপুর উপজেলার মো. শহিদ (খোরশেদ আলমের ছেলে), মো. ইসমাইল (মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে) এবং আব্দুর রহমান (মজিবুর রহমানের ছেলে)। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১৮ মে রাতে সখীপুরে মায়ের সঙ্গে কবিরাজের বাড়িতে যাওয়ার পথে এক নারীকে অপহরণ করা হয়। মোটরসাইকেলে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন আসামিরা। পরে তাকে একটি বাড়ির সামনে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী নিজেই সখীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

















