প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পর এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলি ও এমভি টেকনাফ জাহাজগুলো পর্যায়ক্রমে যাত্রী নিয়ে দ্বীপের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানিয়েছেন, সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত এই তিন জাহাজে ৭ শতাধিক টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করার কথা থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতা ও অনুমোদনের অভাবে জাহাজ চলাচল সম্ভব হয়নি। নৌপরিবহন ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং জেলা প্রশাসকের চূড়ান্ত সম্মতির পরই জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে জাহাজগুলো ছেড়ে যাচ্ছে। এই তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন; যার মধ্যে এমভি বার আউলিয়ায় ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলিতে ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফে ৭১৬ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায়, এমভি কর্ণফুলি ৭টা ১৫ মিনিটে এবং এমভি টেকনাফ ৮টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে গেছে। ফিরতি পথে জাহাজগুলো যথাক্রমে বেলা আড়াইটা, দুপুর ২টা ১৫ মিনিট এবং বিকাল সাড়ে ৩টায় সেন্টমার্টিন ত্যাগ করবে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন ভ্রমণ ও রাত্রিযাপন করতে পারবেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং প্রতিটি পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি প্রদান করতে হবে। ভ্রমণের জন্য কিউআর কোডযুক্ত টিকিট ও ট্রাভেল পাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ এবং কেয়া ফল সংগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাল, শামুক-ঝিনুকসহ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা এবং সৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইক চালানো যাবে না। জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় দ্বীপের স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ও খুশির আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।

















