ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ব্যবহৃত গাড়ির বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় বৃহস্পতিবার সকালে মন্ত্রীর গাড়িটি ট্রাফিক আইন অমান্য করলে সচিবালয়ের সামনে এটি আটকে মামলা দেওয়া হয়। ট্রাফিক সার্জেন্ট সিফাত মাহমুদ এই মামলাগুলো দায়ের করেন।
ঘটনার বিবরণে সার্জেন্ট সিফাত জানান, মন্ত্রীর গাড়িটি লেন লঙ্ঘন করে স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল। দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ গাড়িটি আটক করার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মামলা করা হয়। সার্জেন্ট সিফাত বলেন, মন্ত্রীর গাড়িতে মামলা দেওয়া একটি বিরল ঘটনা। তিনি জানান, কন্ট্রোল রুম থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পাশাপাশি স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) পক্ষ থেকেও ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ ছিল। গাড়িটির চালকও আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ঘটনার সময় মন্ত্রী গাড়িতেই ছিলেন। এ বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
ট্রাফিক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৮৭ ও ৯২ ধারায় মামলা দুটি করা হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগে তিন হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি এবং অনিরাপদভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। সার্জেন্ট সিফাত জানান, মামলা গাড়ির নিবন্ধনের বিপরীতে হলেও আইন লঙ্ঘনের দায় চালকের, তাই জরিমানা চালককেই পরিশোধ করতে হবে।
আইনের ৮৭ ধারায় ৪৪(২) ও ৪৪(৩) উপধারার লঙ্ঘন এবং ৯২ ধারায় ৪৯(১) ধারার বিধান ভঙ্গের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ৪৪(৩) ধারায় নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন, বেপরোয়া ড্রাইভিং বা অননুমোদিত ওভারটেকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির দায়ে শাস্তির বিধান রয়েছে, যার সাথে মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মিল রয়েছে। এছাড়া ৯২ ধারায় ৪৯(১) ধারা অনুযায়ী উল্টো পথে গাড়ি চালানো বা ভুল স্থানে গাড়ি থামিয়ে যানজট সৃষ্টির দায়ে শাস্তির বিধান কার্যকর করা হয়েছে। এসব অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের সুযোগ রয়েছে এবং চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সে দোষসূচক পয়েন্ট যুক্ত হতে পারে।

















