নিজেদের ভূখণ্ডে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অভিযোগ তুলে তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বুধবার আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে একটি আমিরাতের জলসীমায় এবং অন্যটি জলসীমার বাইরে গিয়ে পড়ে। আবুধাবির অভিযোগ, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি মূলত সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মধ্যে এটি একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত ইরানের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হতে পারে। কারণ, দীর্ঘ সময় ধরে দুবাই ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। সাবেক মার্কিন জেনারেল ও সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক কিমিটের তথ্যমতে, দুবাই এখন চীন ও তুরস্ককেও ছাড়িয়ে ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। দেশটির বার্ষিক আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কোনো না কোনোভাবে আমিরাতের মাধ্যমে আসে। ২০২৩ সালে দুই দেশের মধ্যে সরকারি পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারই ছিল আমিরাত থেকে ইরানে রপ্তানি।
বাণিজ্যিক পণ্যের পাশাপাশি দুবাইয়ের গুরুত্ব আরও বেশি। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে যখন সরাসরি পণ্য পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ে, তখন দুবাইয়ের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্য কিনে পুনরায় ইরানে পাঠিয়ে থাকেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ স্থানান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবেও দুবাই কাজ করে। বিশ্লেষক কিমিট মনে করেন, আমিরাতের এই পদক্ষেপকে তেহরান প্রায় যুদ্ধ ঘোষণার শামিল হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। ফলে ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আমিরাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

















