২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ৩৫০ জন ত্রাণকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ব মানবিক দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) এক বিবৃতিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে গাজা ও সুদানে। ওসিএইচএর তথ্যমতে, গাজায় ১৮৬ জন এবং সুদানে ৭১ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। টানা তৃতীয় বছরের মতো গাজা ত্রাণকর্মীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা কিছুটা কম; ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ৩৭৭ জন ত্রাণকর্মী প্রাণ হারিয়েছিলেন।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল টম ফ্লেচার এই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, গত তিন বছরে এক হাজারের বেশি ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। কেবল প্রতিবাদ জানিয়ে এই মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। ফ্লেচার আরও বলেন, রাষ্ট্রগুলোকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলতে হবে এবং বেসামরিক নাগরিক ও ত্রাণকর্মীদের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান থাকা আবশ্যক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আরও ৮২ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ৯৭ জন আহত এবং ৩৯ জন অপহৃত হয়েছেন। ওসিএইচএ সশস্ত্র ড্রোন ও মানববিহীন বিমানের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানায়, এসব অস্ত্রের সহজলভ্যতা সাধারণ মানুষের হাতে প্রাণঘাতী শক্তি তুলে দিচ্ছে এবং শহর এলাকায় বিস্ফোরক হামলার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে সুদানে বেসামরিক মৃত্যুর ৮০ শতাংশই ঘটেছে ড্রোন হামলায়, যা বাজার ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকেও আক্রান্ত করেছে। এছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও ড্রোন হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। টম ফ্লেচার সতর্ক করে বলেন, সশস্ত্র ড্রোন একটি পুরোনো বিপদের নতুন রূপ, যা বেসামরিক মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

















