প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ৪১
আসন্ন ইসলামি বইমেলায় লিটলম্যাগ কর্নারের জন্য স্টল বরাদ্দ দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মেলা আয়োজক কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে এ বিষয়ে পাওয়া যাচ্ছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। লিটলম্যাগ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অভিযোগ, মেলা কমিটির একটি অংশের আপত্তির কারণে স্টল বরাদ্দের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে।
লিটলম্যাগ আন্দোলনের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামি বইমেলায় লিটলম্যাগ কর্নার করার দাবি জানিয়ে আসছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনাও করেছেন। সর্বশেষ বুধবার বইমেলা কমিটির বৈঠক শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কিছুই জানানো হয়নি।
পরবর্তীতে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। মেলা কমিটির সদস্য দেওয়ান মো. মাহমুদুল ইসলাম তুষার জানান, ফাউন্ডেশন বিষয়টি যথাযথভাবে অনুধাবন করতে পারেনি এবং চিঠির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। অন্যদিকে কমিটির আরেক সদস্য আহমদ রফিক দাবি করেন, ফাউন্ডেশনই লিটলম্যাগ কর্নার বরাদ্দ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক রেজ্জাকুল হায়দারের ভাষ্যমতে, মেলা কমিটির প্রকাশক সদস্যদের একটি অংশ বিগত বছরের ঘটনাবলি সামনে এনে লিটলম্যাগ আন্দোলনের বিষয়ে ‘ক্লিয়ারেন্স’ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, লিটলম্যাগ কর্নার বরাদ্দ দিলে বইমেলার ‘ভাবমূর্তি’ ক্ষুণ্ন হতে পারে।
আয়োজকদের দাবি, এই বিরোধ কেবল প্রশাসনিক নয়, বরং মেলা কমিটির একটি অংশের মতাদর্শগত আপত্তি রয়েছে। তারা মনে করেন, লিটলম্যাগ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তরুণ লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীরা ইসলামি সাহিত্য ও গবেষণায় নতুন সৃজনশীল উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন, যা ইসলামি চিন্তার পরিধিকে আরও সমৃদ্ধ করবে। তাদের লক্ষ্য ইসলামি বইমেেলার পরিসর থেকে বেরিয়ে যাওয়া নয়, বরং ইসলামি সাহিত্যচর্চার ভেতরেই নতুন প্রজন্মের কণ্ঠকে তুলে আনা।
বিবৃতিতে গত বছরের বইমেলায় লিটলম্যাগ চত্বরে বিভিন্ন মতের মানুষের সমাগমকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আয়োজকরা অভিযোগ করেন, একটি মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে ওই সমাগমকে ‘ইসলামবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল এবং লিটলম্যাগ কর্মীদের ওপর শারীরিক হেনস্তা করা হয়েছিল। এছাড়া সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে আলো নিভিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরির বিষয়টিও তারা তুলে ধরেছেন।
লিটলম্যাগ আন্দোলনের কর্মীরা নিজেদের আক্রান্ত পক্ষ হিসেবে দাবি করে বলেন, গত বছরের ঘটনাকে বর্তমানে স্টল বরাদ্দ ঠেকানোর যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করাটা একপেশে ও বিকৃত উপস্থাপন। তারা মনে করেন, মতের ভিন্নতা বা ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের কারণে তরুণদের সৃজনশীল উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করা উচিত নয়। আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে তারা দ্রুত ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে অনুকূল সিদ্ধান্ত না এলে লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

















