তাকওয়া অবলম্বন করা প্রতিটি মানুষের জন্য মুক্তির উপায়, প্রশান্তির চাবিকাঠি এবং ইহকাল ও পরকালের আশ্রয়স্থল। মানুষের অন্তরে যখন এই বিশ্বাস জন্মায় যে সে অন্যদের চেয়ে বেশি যোগ্য, বেশি জ্ঞানী বা পবিত্র, তখনই মূলত অহংকারের বীজ রোপিত হয়। এই তুলনামূলক ভ্রান্তি থেকে মানুষ যখন অন্যের রিজিক বা সম্মানকে তুচ্ছজ্ঞান করতে শুরু করে, তখন সে আল্লাহর ন্যায়ের ওপর এক ধরনের গোপন আপত্তি জানায়। এই অহংকার কেবল জিহ্বার কথায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা মানুষের দৃষ্টি, হাসি, কণ্ঠস্বর ও অবজ্ঞার ভঙ্গিমায় প্রকাশ পায়। এমনকি ধার্মিক ব্যক্তি যখন পাপীকে ঘৃণা করে বা সত্য শুধু নিজের কাছেই সীমাবদ্ধ মনে করে, তখনও তা অহংকারেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
মহান আল্লাহ সুরা মুলকের ১৪ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করেছেন যে, যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি সবকিছু সম্যক অবগত। তাই বান্দার উচিত আল্লাহর ফায়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা। নিয়ামতকে অন্যকে হেয় করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা বড় ধরনের ভুল। এর বিপরীতে শরিয়ত আমাদের ইউসুফ (আ.)-এর আদর্শ অনুসরণ করতে বলে। তিনি নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতার কথা বিনয়ের সাথে তুলে ধরেছিলেন, কাউকে ছোট করে নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার অন্তরে সরিষার দানার সমান অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না (সহিহ মুসলিম: ১৬৮)।
অহংকার হলো সত্যকে অস্বীকার করা ও মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা। সুরা লুকমানের ১৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ উদ্ধত ও অহংকারীদের পছন্দ করেন না বলে সতর্ক করেছেন। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনয়ী হয়, আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন; আর যে অহংকার করে, তাকে আল্লাহ লাঞ্ছিত করেন (ইবনে মাজাহ: ৪১৭৬)। তাই মুমিনের উচিত অহংকার ও আত্মপ্রশংসা থেকে দূরে থাকা। নিজের ভাগ্যের ওপর সন্তুষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে বরকত প্রার্থনা করা এবং অন্তরকে পবিত্র রাখা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব। আল্লাহ আমাদের অহংকার, কুধারণা ও লোক দেখানো ইবাদত থেকে হেফাজত করুন।

















