ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে লাফিয়ে বেড়েছে তেল ও গ্যাসের দাম। সাধারণ মানুষ যখন বাড়তি জ্বালানি খরচের চাপে দিশেহারা, তখন যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো বিশাল অংকের মুনাফা ঘরে তুলছে। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার প্রকাশিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে দেশটির ৫০টিরও বেশি বড় জ্বালানি কোম্পানি সম্মিলিতভাবে ১৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মুনাফা করেছে। অথচ আগের বছরের একই সময়ে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ৪৭ বিলিয়ন ডলারেরও কম। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিগুলোর মুনাফা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হতো, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দেয় এবং দাম বেড়ে যায়। এছাড়া যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার বেশ কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিশোধন সক্ষমতা কমে গেছে। এর সুযোগ নিয়ে সচল শোধনাগারগুলো উচ্চমূল্যে জ্বালানি বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের দুই বৃহৎ তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল ও শেভরন চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মুনাফা করেছে। প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় এক্সনমোবিলের মুনাফা দ্বিগুণের বেশি এবং শেভরনের মুনাফা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। এদিকে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাইমেট সলিউশনস ল্যাবের তথ্যানুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পেট্রোল ও ডিজেল কিনতে মার্কিন নাগরিকদের অতিরিক্ত প্রায় ১৪৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে, যা পরিবারপ্রতি গড়ে ১ হাজার ১০০ ডলারেরও বেশি।
জ্বালানি কোম্পানিগুলোর আয় বাড়লেও সাধারণ নাগরিকদের ওপর যে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, তা স্বীকার করেছেন এক্সনমোবিলের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা নেইল হ্যানসেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা বহু বছর আগের বিনিয়োগ ও পরিকল্পনার ফসল হওয়ায় স্বল্প সময়ে উৎপাদন বাড়িয়ে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা কঠিন। সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া অস্থিরতা আবারও লাভ ও ক্ষতির বৈষম্যকে প্রকট করে তুলেছে, যেখানে কোম্পানিগুলো ফুলেফেঁপে উঠছে আর সাধারণ মানুষকে বইতে হচ্ছে বাড়তি দামের বোঝা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একই সময়ে এসব কোম্পানির সম্মিলিত মুনাফা ছিল ৪৭ বিলিয়ন ডলারেরও কম।

















