বাংলাদেশের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নতুন করে শুরু করতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় তিন দশক আগে নবায়ন হওয়া দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় ওয়াশিংটন এখন একটি নতুন আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গরের সদ্যসমাপ্ত তিন দিনের ঢাকা সফরকালে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বৈঠকে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়। দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন সার্জিও গর।
যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত এমওইউর বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশ করেনি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এটি দুই দেশের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য একটি নতুন আইনি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। কর্মকর্তারা আরও জানান, এই সহযোগিতার পরিধি বিস্তৃত হলেও তা কঠোরভাবে কেবল শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র প্রথম বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে চুক্তিটি নবায়ন করা হলেও এরপর আর কোনো নবায়ন হয়নি। ফলে বিদ্যমান অকার্যকর কাঠামোর পরিবর্তে একটি নতুন এমওইউর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এটি মূলত বহু বছর ধরে অকার্যকর হয়ে থাকা একটি সহযোগিতা কাঠামোকে পুনরায় কার্যকর করার প্রয়াস।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই ধরনের চুক্তি অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি, গবেষণা-সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ বিনিময়ের আইনি ভিত্তি তৈরি করে। তবে এসব সহযোগিতার ক্ষেত্রে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিধিবিধান অত্যন্ত কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এই চুক্তিগুলো ‘১২৩ অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে পরিচিত, যা দেশটির অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টের ১২৩ নম্বর ধারার অধীনে সম্পাদিত হয়ে থাকে। মার্কিন জ্বালানি বিভাগের তথ্য মতে, ২০২৫ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি দেশের সঙ্গে ২৬টি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর রয়েছে।

















