ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও উপকূলীয় স্থাপনায় টানা তৃতীয় রাতের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সামরিক অভিযানের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা দেন। সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা হবে, তবে এর ব্যবহারের জন্য ২০ শতাংশ ফি দিতে হবে। এর কিছুক্ষণ পরেই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশেই এই নতুন দফার হামলা শুরু হয়েছে। এর আগে রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আজ রাতে ইরানকে খুব কঠোরভাবে আঘাত করা হবে, আগামীকালও হবে। তারা এ বিষয়ে কিছুই করতে পারবে না।’
হামলা শুরুর পরপরই ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে। বন্দর নগরী বান্দার আব্বাস, পারস্য উপসাগরের কিশ ও কেশম দ্বীপ এবং আবু মুসা দ্বীপে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, বুশেহর প্রদেশের জাম শহরের বাসিন্দারাও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। পরবর্তীতে নূর নিউজ নিশ্চিত করে যে, বুশেহর উপকূলীয় প্রদেশের কয়েকটি এলাকা যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। মেহর নিউজ এজেন্সিও বুশেহরে বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের ওমিদিয়েহ এলাকার কয়েকটি স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন সময় সোমবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে এই পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী অভিযান শেষ হয়। অভিযানের লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল বুশেহর, চাবাহার, জাস্ক, কোনারাক, আবু মুসা ও বান্দার আব্বাসসহ ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতাকে দুর্বল করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে সেন্টকম জানিয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজারের বেশি সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছে।
সামরিক হামলার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে গুলিবর্ষণের ঘটনা নতুন করে বৈশ্বিক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

















