তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা বেশ কিছু বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ আজ এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করবেন।
এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পৃথক দুটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করে রায় প্রদান করেন।
আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন শুনানিতে বিভিন্ন পক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি তুলে ধরেন। সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া পঞ্চদশ সংশোধনীকে ‘প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তা পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানান, তবে তিনি ৯৬ ও ১০২ অনুচ্ছেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আবেদন করেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী শিশির মনির শুনানিতে পঞ্চদশ সংশোধনীর যেসব বিষয় মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক তা বাতিল এবং বাকি বিষয়গুলো সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার আবেদন করেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন এনে ২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস করেছিল। এর মাধ্যমে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্টের রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরার পথ সুগম হলেও কিছু আইনি জটিলতা রয়ে যাওয়ায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক আপিল দায়ের করা হয়। যার মধ্যে সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদকসহ চারজন, নওগাঁর মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই আপিলগুলো করা হয়েছিল।

















