আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের দৃশ্যপট বদলে যাবে। কেউ মেতে উঠবেন ফাইনালের আনন্দে, কেউবা হতাশায় মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়বেন। এই ভিড়ের মধ্যেই হয়তো ইংল্যান্ডের কোনো ফুটবলারের চোখ থাকবে লিওনেল মেসির আকাশি-সাদা ডোরাকাটা ১০ নম্বর জার্সির দিকে। ম্যাচশেষে জার্সি বদলের রীতি ফুটবলে দীর্ঘদিনের হলেও, মেসির এই জার্সিটির গুরুত্ব অন্যরকম। ৩৯ বছর বয়সী মেসির এটিই কি বিশ্বকাপের শেষ অভিযান? ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারলে যেমন এটি হবে তার বিদায়ী ম্যাচ, তেমনি জিতলে সেটি হবে ফাইনালে ওঠার প্রতীক।
ম্যাচ শেষে জার্সিটি পাওয়ার জন্য হয়তো ইংল্যান্ডের কোনো খেলোয়াড় আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছেন। সেটি কি দলের অধিনায়ক, কোনো তারকা খেলোয়াড় নাকি মেসির কোনো ভক্ত তরুণ ফুটবলার? বিষয়টি এখনো অজানা। তবে যিনিই জার্সিটি পাবেন, তার কাছে এটি কেবল ঘামভেজা কাপড় থাকবে না, বরং সময়ের সাক্ষী হয়ে উঠবে। ম্যাচ শেষে মেসির শরীর থেকে খোলা এই জার্সিতে লেগে থাকবে নব্বই বা একশো বিশ মিনিটের যুদ্ধের ক্লান্তি, ঘাসের দাগ আর ঘাম।
আর্জেন্টিনা যদি হেরে যায়, তবে এটি হবে মেসির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচের জার্সি। বহু বছর পর সেই খেলোয়াড় হয়তো গর্ব করে নিজের সন্তানকে বলবেন, এটিই ছিল মেসির শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচের জার্সি। আবার মেসি যদি জিতে যান, তবে সেটি হবে তার শেষ সেমিফাইনালের জার্সি, যা তাকে নিয়ে যাবে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের মঞ্চে। ডিয়েগো ম্যারাডোনার উত্তরসূরি হিসেবে মেসির গায়ে জড়ানো এই ১০ নম্বর জার্সিটি তার হাসি, কান্না, ব্যর্থতা এবং ২০২২ সালে বিশ্বজয়ের গল্পের এক অনন্য দলিল। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপেও হয়তো এই জার্সির উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা চলবে।
ম্যাচ শেষে ক্যামেরাগুলো মেসিকে অনুসরণ করবে। পৃথিবী দেখবে তার অভিব্যক্তি। ঠিক সেই মুহূর্তে ইংল্যান্ডের কোনো খেলোয়াড় তার সামনে দাঁড়িয়ে জার্সি বিনিময়ের প্রস্তাব নিয়ে আসতে পারেন। মেসি তার মাথার ওপর দিয়ে জার্সিটি খুললে এক মুহূর্তের জন্য সেটি তার হাতে থাকবে, আর ঠিক তখনই ইতিহাসের একটি অংশ হাতবদল হয়ে অন্য কারো কাছে চলে যাবে। ফল যা-ই হোক, আজকের এই জার্সিটির সাথে জড়িয়ে থাকবে এক অবিস্মরণীয় গল্পের অধ্যায়।
উত্তর এখনো অজানা। যিনিই পান, তিনি হয়তো প্রথমে বুঝতেও পারবেন না কী নিয়ে মাঠ ছাড়ছেন। জার্সিটিতে তখন ঘামের দাগ থাকবে। ঘাসের চিহ্ন থাকতে পারে। নব্বই কিংবা ১২০ মিনিটের যুদ্ধের ক্লান্তি লেগে থাকবে। সময় যত যাবে, সেই দাগগুলোই হয়ে উঠবে ইতিহাসের সাক্ষী।
একসময় আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি পরতেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। এখন সেই নম্বরের সঙ্গে মিশে গেছে মেসির নাম। ভবিষ্যতে আবার কেউ ১০ নম্বর পরবেন। ফুটবল থেমে থাকবে না। আর্জেন্টিনাও নতুন তারকা পাবে। তবে মেসির ১০ নম্বর আর ফিরে আসবে না। এই জার্সিতে তার হাসি আছে। কান্না আছে। ব্যর্থতা আছে। বিশ্বজয়ের গল্প আছে। ২০১৪ সালের ফাইনাল হারানো
















