সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ছয়জন সংসদ সদস্য ভোটদান থেকে বিরত থেকেছেন। এই তালিকায় রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। ভোট না দেওয়ার পেছনে তিনি তিনটি সুনির্দিষ্ট কারণ তুলে ধরেছেন। তার মতে, এই নির্বাচন ছিল অর্থহীন এবং প্রহসনমূলক। রুমিন ফারহানা জানান, যেখানে ভোটের ফলাফলে কোনো অনিশ্চয়তা নেই, সেখানে একে নির্বাচন না বলে মনোনয়ন বলাই শ্রেয়। এছাড়া গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে একজন অরাজনৈতিক ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করতে না পারার ব্যর্থতাকে তিনি অন্যতম কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন। তৃতীয়ত, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ভয় দেখিয়ে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার পথ রুদ্ধ করার সমালোচনাও করেছেন তিনি।
নির্বাচনে ভোট না দেওয়া অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা, যারা বর্তমানে বিদেশে চিকিৎসাধীন। এছাড়া বিএনপির সংসদ সদস্য ওসমান ফারুক এবং খেলাফত মজলিসের আবুল হাসানও ভোট দেননি। আবুল হাসানের দলের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকেও ভোটকেন্দ্রে দেখা যায়নি।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-৬ আসনের মামলার কারণে ওই আসনের ফল প্রকাশ স্থগিত থাকায় এবং বিএনপির আসলাম চৌধুরীর প্রার্থীতা বাতিল হওয়ায় বর্তমান সংসদে ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। যদিও ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহর ভোটদানে বিরত থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তবে পরে জানা যায় তিনি ভোট দিয়েছেন।

















