কাতার বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে অতীতে হওয়া শতকোটি টাকার লেনদেন, অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে এবার নামমাত্র খরচে সরাসরি ফিফা থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপের মিডিয়া রাইটস কেনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। রোববার সকালে তথ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। এসময় মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. শাহ আলম, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং বিটিভি মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের দূরদর্শী ও সাশ্রয়ী নীতির ফলে এবারের বিশ্বকাপ সম্প্রচারে খরচ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। সেই সময় ফিফার কাছ থেকে ৩.২ মিলিয়ন ডলারে মিডিয়া রাইটস কেনে সিঙ্গাপুরের একটি কোম্পানি। পরবর্তীতে ‘তমা কনস্ট্রাকশন’ নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তৎকালীন সরকার জনগণের ট্যাক্সের ৯৮ কোটি টাকা খরচ করে বিটিভির জন্য স্বত্ব কিনেছিল। এর বাইরে দেশের বেসরকারি মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে আরও প্রায় ৩৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়, যা মোট ১৪০ কোটি টাকার বিশাল টার্নওভারে রূপ নেয়।
বর্তমান সরকারের স্বচ্ছতার কথা উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন জানান, প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা ছিল যে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে জনগণের ট্যাক্সের টাকা অপচয় করা যাবে না। সেই নির্দেশনা মেনেই কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি ফিফার সঙ্গে দর-কষাকষির মাধ্যমে ৩.৮৫ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪৭ কোটি টাকায় মিডিয়া রাইটস কেনা হয়েছে। পরবর্তীতে দেশের চারটি মাধ্যমের কাছে সাব-লাইসেন্সিং করে ব্যয়ের প্রায় পুরো টাকাই তুলে আনা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে মাত্র ৪-৫ কোটি টাকার মতো সামান্য ঘাটতি রয়েছে, যা বিজ্ঞাপন ও রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করে শূন্যে নামিয়ে আনা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ফুটবলের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আবেগ ও আগ্রহকে বিগত সরকার দুর্নীতির হাতিয়ার বানিয়েছিল। ২০২২ সালের দুর্নীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের এই সাশ্রয়ী পারফরম্যান্সের তুলনা করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যায়। বিটিভির মহাপরিচালকের নেতৃত্বে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে সফলভাবে সম্প্রচার সম্পন্ন করেছেন। বাফুফে, স্পোর্টস রিপোর্টার এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি। আগামীতে এই সম্প্রচার প্রক্রিয়াকে শুধু জিরো কস্ট নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাভজনক খাতে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে মন্ত্রণালয়ের।
রোববার (১৯ জুলাই) সকালে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এর বাইরে দেশের অন্যান্য বেসরকারি মাধ্যম তাদের কাছ থেকে প্রায় ৩৯ কোটি টাকায় রাইটস সাব-লাইসেন্স করে। এর মধ্যে টি-স্পোর্টস ২২ কোটি এবং ট্রফি ১৭ কোটি টাকায় রাইটস কিনে নেয়। সব মিলিয়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা পাইয়ে দিতে জনগণের ট্যাক্সের প্রায় ১৪০ কোটি টাকার বিশাল টার্নওভারের মাধ্যমে অর্থ লোপাট করা হয়।আরও পড়ুনআরও পড়ু

















