মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি আনুষ্ঠানিকভাবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষ নেন, তবে তা একটি ‘ঐতিহাসিক ভুল’ হিসেবে গণ্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। জেলেনস্কি জানান, এখনো তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একজন মিত্র হিসেবেই দেখেন এবং আশা করেন যে তিনি তার বর্তমান সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সিদ্ধান্তগুলো ইউক্রেন বা যুক্তরাষ্ট্র কারও জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না।
সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলা কিছু বিধিনিষেধের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে ইউক্রেন আসন্ন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম তথ্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে, জেটচালিত ড্রোন প্রতিহত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, স্টারলিংকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের এই পদক্ষেপের পেছনে মার্কিন সরকারের বার্তা রয়েছে।
জেলেনস্কি আরও জানান, কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় আবার চালু হয়েছে। তবে সামরিক কাজে ব্যবহৃত স্টারলিংকের বিশেষ সংস্করণ ‘স্টারশিল্ড’ ব্যবহারে বিধিনিষেধ এখনো বহাল রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে ট্রাম্প কিংবা স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত না হলেও তিনি মনে করেন দুজনেই এর সঙ্গে জড়িত। জেলেনস্কির মতে, ট্রাম্প যদি বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন, তবে স্টারলিংক আগের মতোই তাৎক্ষণিকভাবে কাজ শুরু করবে।
এর আগে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে পুতিনের তুলনায় জেলেনস্কির সঙ্গে সমঝোতা করা বেশি কঠিন। এর জবাবে জেলেনস্কি বলেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সবসময় ‘খুবই সৎ’ ছিলেন এবং আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন।

















