ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলে দেশটির সামরিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে বড় ধরনের হুমকি তৈরি হয়েছে। লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর হুতিদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত হওয়ায় এই ঝুঁকি বেড়েছে। ইয়েমেন সরকারের সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হানিশ দ্বীপপুঞ্জেও হুতিরা পৌঁছে গেছে এবং সেখান থেকে তারা বিভিন্ন হামলা পরিচালনা করছে।
বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর হুতিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে এটি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য বড় আঘাত হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি বন্ধ হয়ে গেলে আরব উপদ্বীপের অপর পাশে অবস্থিত হরমুজ প্রণালির মতো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ পথ বাধাগ্রস্ত হবে। এতে হুতিদের মিত্র ইরান কৌশলগতভাবে বড় ধরনের সুবিধা পেতে পারে। সেই সঙ্গে দ্বিতীয় একটি জ্বালানি পরিবহন পথ সংকুচিত হওয়ার খবরে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ২৮ মার্চ ইসরাইলের ওপর হামলার মাধ্যমে হুতিরা সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। জুলাই মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার আগ পর্যন্ত তারা কিছুটা নীরব থাকলেও, পরবর্তীতে সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে তাদের হামলার তীব্রতা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব লোহিত সাগরের নৌপথের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় বাব আল-মান্দাব প্রণালি হুতিদের দখলে চলে যাওয়ায় সৌদি আরব বড় ধরনের বিপাকে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

















