রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না বলে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। শনিবার বিকেলে মোহাম্মদপুরের বছিলা পুলিশ লাইনসে আয়োজিত এক নাগরিক মতবিনিময় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন। কমিশনার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ থাকবে না এবং এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
সভায় উপস্থিত নাগরিকরা মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসা এবং ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে তাদের তীব্র উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। যদিও অধিকাংশ নাগরিকের মতে, আগের তুলনায় এসব অপরাধের প্রবণতা কিছুটা কমেছে এবং পুলিশের পরিসংখ্যানেও ছিনতাই নিয়ন্ত্রণে থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন জানান, গত তিন মাসের অপরাধ পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র দেখা যায়। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ বিচার করা সম্ভব নয়।
মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, শুধু পুলিশের একার পক্ষে এই সমস্যা নির্মূল করা কঠিন। তিনি অপরাধ দমনে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, জনতার প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় শক্তি। পুলিশের পাশাপাশি এলাকাবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মোহাম্মদপুর থানায় আটটি বিট রয়েছে উল্লেখ করে কমিশনার জানান, তেজগাঁও বিভাগের কর্মকর্তাদের বিট পুলিশিং আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাদক স্পট ও কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানার তালিকা অনুযায়ী নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং এই কার্যক্রম আরও বাড়ানো হবে। রিকশা ও অটোরিকশার গ্যারেজগুলোতেও নিয়মিত তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, রাতে এসব গ্যারেজে কাউকে পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।
কিশোর গ্যাং দমনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও ডিএমপি যৌথভাবে কাজ করবে বলে জানান কমিশনার। ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ছিনতাইকারীর হাতে অস্ত্র থাকলে বা তারা হামলার চেষ্টা করলে পুলিশ আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেবে, প্রয়োজনে অস্ত্র প্রয়োগ করা হবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মোহাম্মদপুরের বছিলা পুলিশ লাইনসে নাগরিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

















